বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, September 2, 2026

মুন্সিগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে কর্মচারীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজারে একটি স্বর্ণের দোকান থেকে সুমন দে (৪৫) নামে এক কর্মচারীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দোকানের শাটার খুলে ভেতরে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মুখে বালিশ চাপা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত সুমন দে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত নারায়ণ দের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসাইল বাজারের অমিত সরকার গোবিন্দের স্বর্ণের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি দূরে হওয়ায় সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি দোকানেই থাকতেন এবং সেখানেই ঘুমাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে দোকানের মালিক অমিত সরকার গোবিন্দ সুমনকে দোকানে রেখে বাড়িতে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দোকানটি বন্ধ ছিল।

সকাল ৮টার দিকে পাশের চায়ের দোকানের মালিক মঞ্জু রায় সুমনের মুঠোফোনে কল করেন, কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের সামনে যান। তাঁরা শাটারে ধাক্কা দিলে এক পাশ কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে শাটার উঠিয়ে ভেতরে তাকালে মেঝেতে সুমনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে কোনো পোশাক ছিল না এবং মুখের ওপর একটি বালিশ চাপা দেওয়া ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মুখে বালিশ চাপা থাকা এবং পোশাকবিহীন অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

পুলিশ দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাতে সেখানে কারা যাতায়াত করতেন এবং দোকানের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করছে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও দোকানের মালিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment

"
"