বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, January 13, 2026

স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে


মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত শিক্ষক অনাদি বিশ্বাসকে (৩৫) হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতপরিচয় দুই কিশোর এ হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়। এর আগে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে তার ওপর হামলা হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চৌহদ্দি গ্রামের অতুল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে মাদারীপুর শহরের মাস্টার কলোনী এলাকায় ভাড়া থাকেন।

পুলিশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য সোমবার সকালে শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস তার বাসা থেকে বের হন। বিদ্যালয়ের পেছনের ফটক দিয়ে ঢোকার আগেই ওত পেতে থাকা দুই কিশোর তার ওপর হামলা করে। তারা অনাদি বিশ্বাসকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় শিক্ষকের চিৎকারে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই কিশোর পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন, আরিফুজ্জামান মুনশি, মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আহত শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস বলেন, মুখে মাস্ক পরা দুজন কিশোর আমার ওপর হামলা করেছে। তারা আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে দিয়েছি। লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত হামলাকারীদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের কঠিন বিচার দাবি করছি।

বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মিলন হোসেন বলেন, শিক্ষকের ওপর এমন হামলা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। তাই আমরা দ্রুত এই ঘটনার বিচার চাই। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, আমাদের স্যার খুবই ভালো মানুষ। কেন তার ওপর এই হামলা হয়েছে, তা খুঁজে বের করে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাই।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, ওই শিক্ষকের মাথায় গুরুতর জখম আছে। ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একাধিক টিম কাজ করছে।

No comments:

Post a Comment

"
"