ঝালকাঠি শহরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ জয় নারায়ণ ঘোষালের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বারচালা বা নাটমন্দির ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে শহরে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ও রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্যে নাটমন্দির হলো মূল মন্দিরের সামনের উন্মুক্ত মণ্ডপ, যা একসময় নৃত্য-সংগীত, কীর্তন, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্র ছিল। স্থানীয়দের মতে, ঝালকাঠির এই বারচালা নাটমন্দিরটি শুধু উপাসনালয়ই নয়, এটি শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সময়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, মাওলানা ভাসানী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসসহ বহু কীর্তিমান নেতা এখানে সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, এত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি স্থাপনা ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী এবং তা কার স্বার্থে করা হচ্ছে? তারা বলছেন, স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হয়ে থাকলে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক, ধ্বংস নয়। তাদের মতে, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, ১৯৬৮-এর আওতায় এমন স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় বারচালা নাটমন্দির ভাঙার উদ্যোগ বন্ধ করে দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment