বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, July 20, 2026

আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার: মহাদেবের আরাধনায় মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ

আজ পবিত্র শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত শুভ ও মহিমান্বিত। দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য শ্রাবণ মাসকে বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে শ্রাবণের প্রতিটি সোমবার—যা ‘শ্রাবণ সোমবার’ নামে পরিচিত—ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শাস্ত্র মতে, এই মাসে ভগবান শিবের পূজা-অর্চনা, উপবাস ও জলাভিষেক করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় এবং সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সমু্র মন্থনের সময় সৃষ্ট ‘হালাহল’ বিষ পান করে দেবতা ও মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন মহাদেব। সেই বিষপানের ফলে তাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ ধারণ করে এবং তিনি ‘নীলকণ্ঠ’ নামে পরিচিত হন। কথিত আছে, মহাদেবের শরীরের তাপ প্রশমিত করতে দেবতারা তাঁর মাথায় অবিরাম জল ঢেলেছিলেন—যার স্মরণে আজও শ্রাবণ মাসজুড়ে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, মধু ও দই অর্পণের রীতি পালিত হয়।

হিন্দু শাস্ত্রে সোমবারকে চন্দ্রের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। চন্দ্র মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক স্থিতির প্রতীক। মহাদেবের জটাজুটে অর্ধচন্দ্র শোভা পায় বলেই সোমবার তাঁর পূজা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আজ ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা করছেন। শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, মধু, দই ও ঘি দিয়ে অভিষেক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, চন্দন ও ফলমূল নিবেদন করছেন তারা। পূজার সময় ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এবং ‘মহামৃত্যুঞ্জয়’ মন্ত্র জপের মধ্য দিয়ে মহাদেবের আশীর্বাদ কামনা করা হচ্ছে।

শ্রাবণ সোমবারের উপবাস শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীকও। অনেক ভক্ত এই দিনে নির্জলা বা ফলাহার উপবাস পালন করেন এবং সন্ধ্যায় নিরামিষ আহারের মাধ্যমে ব্রত সম্পন্ন করেন। অবিবাহিত নারী-পুরুষরা মনের মতো জীবনসঙ্গী লাভের আশায় এই ব্রত পালন করেন, আর বিবাহিত দম্পতিরা পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় মহাদেবের শরণাপন্ন হন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শ্রাবণের প্রথম সোমবার নিষ্ঠাভরে মহাদেবের আরাধনা করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক ও নেতিবাচকতা দূর হয়। আজকের এই পবিত্র দিনে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্ত উপবাস, পূজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবাদিদেবের আশীর্বাদ কামনা করছেন। “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ ও পূজামণ্ডপ।


 

No comments:

Post a Comment

"
"