মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি বিতরণের ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া রোধে গত ২৯ মার্চ থেকে উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি শুরু হয়। ১ জুলাই গাংনী পৌর শহরের বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা ডিম পচা ও পাউরুটিতে ছত্রাক থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ এনজিওর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে শোকজ করেছেন। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তার সখ্যতার কারণেই এমন পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ওই কর্মকর্তার স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, "চোর ধরাই আমার বড় অপরাধ হয়েছে, তাই শোকজ খেয়েছি।" অভিভাবক আব্দুর রহিম বলেন, "ঠিকাদারকে ছেড়ে দিয়ে শিক্ষককে শোকজ দেওয়া দুঃখজনক, এতে অনিয়ম উৎসাহিত হবে।" স্থানীয় সচেতন মহল খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার কথা স্বীকার করলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রশ্নে স্পষ্ট কিছু বলেননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র বলেন, "প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন, বিষয়টি সমাধান করা হবে।" ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, শিক্ষা কর্মকর্তাদের ‘মাসোহারা’ না দিলে বিল আটকে যায়, তাই খুশি রাখতে হয়।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment