আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM) বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, হ্যাক হওয়া বা যাচাইবিহীন পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু পরিবার হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে HRCBM দাবি করেছে, অভিযোগের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ওই পরিবারের বাড়িঘর, জীবিকার উৎস এবং একটি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের মালিকানা, লগইন ইতিহাস, আইপি ঠিকানা, ডিভাইস বিশ্লেষণ কিংবা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল কি না, তা যাচাই ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে অভিযোগই কার্যত শাস্তিতে পরিণত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির ব্যত্যয় ঘটছে বলে তারা দাবি করেছে।
HRCBM জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে একই ধরনের অভিযোগে ৭৩ জন সংখ্যালঘু যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া স্ক্রিনশট, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তারের আগে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত, শুধুমাত্র স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার না করা, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিথ্যা অভিযোগ ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।
HRCBM-এর মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

No comments:
Post a Comment