বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, July 11, 2026

সংবিধানে সমতার নিশ্চয়তা, সমাজে বৈষম্যের বাস্তবতা: দলিত (হরিজন) জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও জীবনসংগ্রাম

বাংলাদেশের সংবিধান সবার জন্য সমতা ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের দলিত জনগোষ্ঠী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদায় নানা বঞ্চনার মুখোমুখি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, রবিদাস, ডোম, হাড়ি, লালবেগীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে পরিচ্ছন্নতার মতো নির্দিষ্ট কিছু পেশায় আবদ্ধ হয়ে পড়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার চক্রেই কাটছে। আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশ সত্ত্বেও জন্মসূত্রে পাওয়া এই পেশাগত পরিচয় বদলানোর সুযোগ সবার হয় না। ফলে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে সীমিত প্রবেশাধিকার তাদের কর্মসংস্থানের পথকেও সংকুচিত করছে। দারিদ্র্য, বৈষম্যমূলক আচরণ ও বিদ্যালয়ের প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিশু প্রাথমিক বা মাধ্যমিকেই ঝরে পড়ছে।

শুধু শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানেও একই চিত্র। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় অস্বাস্থ্যকর কলোনিতে বসবাস, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের অভাবে দলিত পরিবারগুলোর জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক অবজ্ঞা ও দূরত্বের শিকার হওয়ার ঘটনাও থেমে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবই সংবিধানের চেতনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিপন্থী।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী হলেও আইনের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। এটি কমাতে প্রয়োজন শিক্ষাবৃত্তি সম্প্রসারণ, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বৈষম্যবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সর্বোপরি সমাজের সবার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা তৈরি।

একটি রাষ্ট্রের সভ্যতার প্রকৃত বিচার হয় তার সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটির প্রতি আচরণ দিয়ে। তাই দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

No comments:

Post a Comment

"
"