আশপাশে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটছে। কিন্তু জানেন কি, এই মারাত্মক রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেকটাই সাধারণ ঠান্ডা, কাশি ও দুর্বলতার মতো? এ কারণেই প্রায়শই রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ রোগ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সম্ভাবনা তত ভালো।
প্রথম দিকে রোগটি নীরবে বাড়তে থাকে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলেই সাবধান হওয়া উচিত। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফুসফুসের ক্যানসারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:
দীর্ঘস্থায়ী কাশি: ফুসফুসের ক্যানসারের শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান সংকেত হলো দীর্ঘদিনের কাশি। সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে গেলেও ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই কাশি ধীরে ধীরে আরও খারাপ হতে থাকে। অনেক সময় কাশি গভীর ও কর্কশ হয়ে ওঠে বা ঘনঘন হয়। কয়েক সপ্তাহ পরেও যদি কাশি না কমে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘনঘন সংক্রমণ: বারবার নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই জায়গায় যদি ঘুরেফিরে সংক্রমণ হতে থাকে, তা ফুসফুসের ভেতর টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
বুকের ব্যথা বা ধড়ফড়: হালকা বুকধড়ফড় বা ব্যথা অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কখনো চাপের মতো, আবার কখনো তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হাসলে, কাশি দিলে বা গভীর শ্বাস নিলে এই ব্যথা বাড়তে পারে।
কণ্ঠস্বর কর্কশ হওয়া: সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ থাকলে বা অস্বাভাবিক লাগলে তা ফুসফুসের টিউমার স্নায়ুতে চাপ দেওয়ার কারণে হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তা শুধু ক্লান্তি মনে হতে পারে। কিন্তু এই শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়লে অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ টিউমার শ্বাসনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও কয়েক সপ্তাহে যদি ওজন কমে যায়, তবে তা সাধারণ দুর্বলতা নয়। ক্যানসার কোষ বাড়লে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বদলে যায় এবং শক্তি বেশি খরচ হয়, ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না।
যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম। সচেতনতাই পারে এই রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment