বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, August 31, 2026

একাই শিক্ষক-দপ্তরী-পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৩২ বছর ধরে স্কুলের হাল দোলনের হাতে

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া গ্রামে অবস্থিত বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। একটি ছোট্ট টিনের কক্ষ, একজন শিক্ষক—যিনি একাই ৩২ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল। নেই কোনো বিষয়ভিত্তিক আলাদা শিক্ষক, নেই আধুনিক অবকাঠামো। তবুও থেমে নেই পড়াশোনা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি একাই সামলান সব ক্লাস। কখনো শিক্ষক, কখনো দপ্তরী, আবার কখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী—সব ভূমিকায় তিনি।

এই স্কুলের অবকাঠামো সাদামাটা। টিনের এক কক্ষ, তাও জীর্ণ। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মাত্র ২০০ টাকা, যার অনেকেই দিতে পারে না নিয়মিত। কেউ কেউ পড়ছে বিনা বেতনে। স্কুল ঘর ঝাড়ু, পরিচ্ছন্নতা, এমনকি অতিথি এলে চা বানানো—সব কাজ নিজেই করেন শিক্ষক দোলন ভৌমিক।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকলেও এই স্কুলের ফলাফল চমকপ্রদ। এখান থেকে পড়াশোনা করে কেউ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কেউ মেডিকেল কলেজে, আবার কেউ হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার। দোলন ভৌমিকের কাছে এটি শুধু চাকরি নয়, ৩২ বছরের এক সম্পর্ক। তাই শরীর খারাপ থাকলেও তিনি স্কুলে আসেন; ছুটির দিন ছাড়া বন্ধ থাকে না তাঁর পাঠদান।

মাস শেষে দোলন ভৌমিকের বেতন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। অর্থের হিসাবে যা সামান্য, কিন্তু তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে অন্য হিসাব। এই স্কুলের বেঞ্চ পেরিয়ে যখন কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় বা বিসিএস ক্যাডার হয়, তখন যেন নিজের সার্থকতা খুঁজে পান তিনি।

দোলন ভৌমিকের স্বামী ধর্মপ্রচারের কাজে থাকেন। দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, আরেকজন পড়াশোনা করছেন। সংসার সামলিয়েও তিনি অক্লান্তভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল।

নেই বড় কোনো ভবন, নেই একাধিক শিক্ষক। তবু একজন শিক্ষকের নিষ্ঠা আর শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন—এই দুইয়ে এগিয়ে চলেছে বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের স্বপ্ন আর আত্মত্যাগই যেন এই স্কুলের মূল প্রাণশক্তি।


 

No comments:

Post a Comment

"
"