বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, August 1, 2026

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ইনজেকশন: মাত্র সাত মিনিটে চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ভারতে। ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজারে এসেছে মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য এক যুগান্তকারী ইনজেকশন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি রোশ ফার্মা তৈরি করা ‘ডিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সারের প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরাচরিত নিয়মে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে রোগীদের হাসপাতালের বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হতো। স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনে ওষুধ দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রোগীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করতো, তেমনি হাসপাতালের উপর তৈরি করতো বাড়তি চাপ। তবে নতুন এই উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এটি সরাসরি রোগীর ত্বকের নিচে সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই নতুন ইনজেকশনে 'এটিজলিজুম্যাব' নামের একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানবদেহের পিডিএল-ওয়ান নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে কাজ করে। সাধারণ অবস্থায় ক্যান্সার কোষগুলো এই প্রোটিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাদের খুঁজে পায় না। নতুন এই ইনজেকশন প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং তা ধ্বংস করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করে। কারণ কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও মারাত্মক ক্ষতি করে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক অনেক কম। যেসব রোগীর টিউমারে পিডিএল-ওয়ান প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারবেন।

ক্যান্সার জয়ের এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আকাশচুম্বি খরচ। ভারতে এই ইনজেকশনের প্রতি ডোজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা)। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করতে একজন রোগীর অন্তত ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়। ফলে সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে এটিকে।

ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম ভোগান্তি এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার সুবিধার কারণে এই ইনজেকশনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কিংবা বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্যান্সার রোগীদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করা সম্ভব হয়।

No comments:

Post a Comment

"
"