নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দিরসহ তিনটি মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, অপহরণ ও হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেখানো হয়নি। মন্দিরের জমি-পুকুর ইজারা, বার্ষিক মেলা ও দান-অনুদানের মোট ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার ও হরগোবিন্দ প্রামানিকের নেতৃত্বে একটি চক্র আত্মসাৎ করেছে। পাশাপাশি তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা ৮ দশমিক ৪৫ একর ও শিব-কালী মন্দিরের ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি জাল-জালিয়াতি ও জোরপূর্বক দখল করে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে মাছের হ্যাচারিতে আটকে রেখে জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। একই রাতে সভাপতি সুভাষ চন্দ্রের বাড়িতে ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র দল হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে। তিনি প্রাণভয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।
অভিযুক্ত হরগোবিন্দ প্রামানিক অবশ্য সব অস্বীকার করে দাবি করেন, "আমরা প্রতি বছর হিসাব দিয়েছি, জমি বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নই।" তবে অপর অভিযুক্ত সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্রকে আটকে রেখে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment