বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, July 10, 2026

সুনামগঞ্জে ফেইসবুক পোস্টের জেরে মন্দির-বাড়িতে হামলা, ধ্বংসস্তূপে সম্প্রীতির গ্রাম

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের গড়কাটি গ্রামে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। যাদুকাটা নদীর তীরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মিলনমেলা যুগ যুগ ধরে এখানকার ঐতিহ্য। কিন্তু গত ২৩ জুন এক ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই সম্প্রীতির ওপর দিয়ে বয়ে গেল তাণ্ডব। চারটি মন্দিরসহ বেশ কিছু বাড়ি ও দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো ধ্বংসস্তূপ হয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিখিল রায়ের ছেলে সুদীপ্ত রায়ের ফেইসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নিখিল রায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে মীমাংসার জন্য বাদাঘাট বাজারে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে শত শত লোক ‘মব’ তৈরি করে তাদের আটকে ফেলে। কোনো রকমে এক দোকানে আশ্রয় নিলে দোকানি শাটার নামিয়ে তাদের বাঁচান। পরে পুলিশ পেছনের দরজা দিয়ে সুদীপ্তকে থানায় নিয়ে যায়।

সুদীপ্তকে পুলিশে দেওয়ার পরও উত্তেজিত জনতা তিন দফা মিছিল করে গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের বাড়ি, স্থানীয় কালীমন্দির, দুর্গামন্দির ও নাটমন্দিরে হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে নাটমন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়, বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। খাবার পানির টিউবওয়েলও ভেঙে ফেলা হয়। এখনো সেখানে ফেরেনি স্বাভাবিকতা।

এলাকাবাসী জানান, এই গ্রামে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল সিকদার ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদার বলেন, “আমাদের এলাকাটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এলাকা, আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।” স্থানীয় সংসদ সদস্যও বলেছেন, “ছেলেটির অপরাধের দায় তার সম্প্রদায় বা মন্দিরের ওপর বর্তায় না। যারা ভাঙচুর করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আসতে হবে।”

তবে ছেলেটির মা-বাবার চোখে এখন শুধুই অন্ধকার। মা কেতকী রায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের পরীক্ষা ছিল, সে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। ভবিষ্যৎ শেষ।” অথচ যারা বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, মন্দিরে হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু সুদীপ্তর বিরুদ্ধেই সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এখন কারাগারে, আর গড়কাটির ধ্বংসস্তূপ যেন বহুদিনের সম্প্রীতির এক নীরব কান্না।


 

No comments:

Post a Comment

"
"