মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি আদৌ জীবিত কি না, তা নিয়ে আবারও তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিচার শেষে তাকে আর জনসমক্ষে আনা হয়নি, এমনকি পরিবার বা আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সম্প্রতি বিশ্বনেতাদের কাছে তার মায়ের ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা জীবিত থাকার প্রমাণ দাবির আহ্বান জানিয়েছেন।
লন্ডনে এক সাক্ষাৎকারে কিম বলেন, “চার বছরে কেউ মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। জানি না তিনি কোথায় আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না।” গত এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে গৃহবন্দি করা হয়েছে এবং একটি ছবিও প্রকাশ করে। তবে কবে তোলা, তা জানানো হয়নি। কিম সেই ছবির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, নেপিডোতে তার সরকারি বাসভবন ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে তিনি সেখানে থাকতে পারেন না।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে সু চির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। কিছু কূটনীতিকের আশঙ্কা, জান্তা হয়তো সু চির জীবিত থাকার প্রমাণ দেখাতেই পারছে না। তবে মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস মনে করেন, জান্তা সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণেই তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, মৃত্যু হলে তা এতদিন গোপন রাখা কঠিন হতো।
এদিকে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্প্রতি ব্যাংকক বৈঠকে সু চির অবস্থা জানতে চেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের সাক্ষাতের সুযোগ দিলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। তবে জান্তা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় সু চির নেতৃত্বে আবার কোনো শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার। বর্তমানে দেশটির কারাগারে ১৪ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দী আটক, চলতি বছরেই ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিম অ্যারিস বলেন, “শুধু আমার মায়ের কথা নয়, অন্য বন্দিদের কথা বিশ্ব যেন ভুলে না যায়।”
.jpeg)
No comments:
Post a Comment