বঙ্গোপসাগরের গভীর জল থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে এক রহস্যময় পাথরের দেবমূর্তি, যার বয়স প্রায় ৫০০ বছর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ভারতের প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসপ্রেমী মহলে তুমুল কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, পুদুচেরির কারাইকাল মৎস্যবন্দর থেকে ১৬ জন জেলেকে নিয়ে একটি যান্ত্রিক নৌকা সমুদ্রে গিয়েছিল। ১০ জুলাই গভীর রাতে তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম উপকূলের কাছে জাল ফেললে সেটি অস্বাভাবিক ভারী হয়ে যায়। জাল টেনে তুলে জেলেরা দেখতে পান, ভেতরে রয়েছে শামুক-শ্যাওলা জমে থাকা বিরাট এক পাথরের কারুকার্যময় দেবমূর্তি। ১১ জুলাই মূর্তিটি কারাইকাল বন্দরে এনে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন তারা।
মূর্তিটি দেখতে দক্ষিণ ভারতের মধ্যযুগীয় মন্দির শিল্পরীতির অনুরূপ। এর মাথায় উঁচু মুকুট, গলায় ও দেহে সূক্ষ্ম অলংকার, এবং পেছনে বৃত্তাকার অলংকৃত প্রভামণ্ডল রয়েছে। একটি হাত আশীর্বাদের ভঙ্গিতে উঁচু, যা পল্লব-চোল-পাণ্ড্য যুগের ভাস্কর্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
মহাবলীপুরম সংলগ্ন এই উপকূল প্রাচীন ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, মূর্তিটি কোনো উপকূলবর্তী প্রাচীন মন্দির থেকে ক্ষয় বা ঘূর্ণিঝড়ে সমুদ্রে চলে যেতে পারে, কিংবা জাহাজডুবির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। আবার মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূর্তি পাচারের সময় ধরা পড়ার ভয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা মূর্তিটির গায়ের জমাট বাঁধা সামুদ্রিক আস্তরণ পরিষ্কার করে পাথরের ধরন, নির্মাণকাল ও শিল্পরীতি বিশ্লেষণ করবেন। দেশের নিখোঁজ মূর্তির তালিকার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষেই জানা যাবে, প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এই দেবমূর্তির প্রকৃত ইতিহাস।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment