রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে প্রার্থী (২৪) ও ছেলে প্রীয়ম (১২)-কে হত্যার ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নিহতদের বাসায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নিহতদের বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী (৭০) কেঁদে বলেছেন, ‘শুধু একটি পরিবার শেষ হয়নি, আমাদের পুরো বংশই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।’
গোপিনাথ চক্রবর্তী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোহিত তিনি এই হত্যা মামলার বাদী। তিনি জানান, তারা চার ভাই ছিলেন। বড় দুই ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান নেই। বড় দুই ভাইয়েরও কোনো ছেলে সন্তান নেই। গণপতির ছেলে প্রীয়মই ছিল তাদের বংশের একমাত্র পুরুষ সন্তান। তিনি বলেন, ‘প্রীয়ম বেঁচে থাকলে আমাদের বংশকে বাঁচিয়ে রাখতো। এখন বংশে বাতি জ্বালানোর মতো আর কেউ রইল না।’
গোপিনাথ আরও বলেন, ছোট ভাই গণপতি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র, তখন তাদের বাবা হেমন্ত চক্রবর্তী মারা যান। তিনি পুরোহিত্য করে সংসার চালিয়ে গণপতিকে পড়াশোনা করিয়েছেন। গণপতি সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন এবং সবাইকে দেখভাল করতেন।
নিহত গণপতির ভাতিজি সপ্তমী চক্রবর্তী বলেন, ‘কাকা প্রীয়ম ছিল আমাদের চোখের মণি। সে ছিল বংশের একমাত্র ভাই। প্রীয়ম নেই—এটা ভাবতেই পারছি না।’ তিনি জানান, কাকা গণপতি ও তার পরিবারের সবাই খুন হওয়ায় তাঁর বাবা গোপিনাথ খুবই ভেঙে পড়েছেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ধীমান ভট্টাচার্য জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান চলে। নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। যেহেতু চারজনই খুন হয়েছেন, তাই চারদিনে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment