বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, September 2, 2026

September 02, 2026

মথুরানাথ বসু গোপালগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম অগ্রদূত


সেন্ট মথুরানাথ বোস, ১৮৭৪ সালে গোপালগঞ্জে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক ও ভাটির মানুষের আশার আলো।

প্রায় দেড়’শ বছর আগে গোপালগঞ্জে অঞ্চল ছিল জলাভূমি ও প্লাবণ এলাকা। এখানকার আদিবাসীদের প্রায় সবাই ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এরা ছিল অতিশয় গরীব ও অশিক্ষিত। আঁধারে ঢাকা এ অঞ্চলে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে কলকাতার ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরী ছেড়ে ১৮৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নৌকাযোগে গোপালগঞ্জ পৌঁছান।

শুরু করেন নিরক্ষর মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজ। গড়ে তোলেন শিক্ষাঙ্গণ, ভজনালয়, কোর্ট, পোষ্ট অফিস, হাইস্কুল, ব্যাংক, হাসপাতাল ও কৃষি খামার। গোপালগঞ্জের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসতে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে হয়ে ওঠেন তাদের বন্ধু। অশিক্ষা আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই ছিল তার। গোপালগঞ্জবাসীর জন্য তিনি আশির্বাদ হয়ে এসেছিলেন।

মথুরানাথ বোস স্থাপিত এ অঞ্চলের প্রথম পাঠশালাটিই মিশন হাইস্কুল নামে পরিচিত। পরে তার নামানুসারে এমএন ইনস্টিটিউট রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মিশন হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু এই মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। স্কুলটি ১৯৫০ সালে কায়েদে আযম কলেজ ও  পরে বঙ্গবন্ধু কলেজ ,বর্তমানে গোপালগঞ্জ সরকারী কলেজ নামকরন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ শহরে শিক্ষা বিসত্মারে তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এ ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার একমাত্র সরকারী বালক এস এম মডেল স্কুলটি দুই সহোদর শীতানাথ ও মথুরানাথ (এস এম মডেল) এর নামানুসারে রাখা হয়েছে।
September 02, 2026

মুন্সিগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে কর্মচারীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজারে একটি স্বর্ণের দোকান থেকে সুমন দে (৪৫) নামে এক কর্মচারীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দোকানের শাটার খুলে ভেতরে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মুখে বালিশ চাপা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত সুমন দে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত নারায়ণ দের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসাইল বাজারের অমিত সরকার গোবিন্দের স্বর্ণের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি দূরে হওয়ায় সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি দোকানেই থাকতেন এবং সেখানেই ঘুমাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে দোকানের মালিক অমিত সরকার গোবিন্দ সুমনকে দোকানে রেখে বাড়িতে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দোকানটি বন্ধ ছিল।

সকাল ৮টার দিকে পাশের চায়ের দোকানের মালিক মঞ্জু রায় সুমনের মুঠোফোনে কল করেন, কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের সামনে যান। তাঁরা শাটারে ধাক্কা দিলে এক পাশ কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে শাটার উঠিয়ে ভেতরে তাকালে মেঝেতে সুমনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে কোনো পোশাক ছিল না এবং মুখের ওপর একটি বালিশ চাপা দেওয়া ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মুখে বালিশ চাপা থাকা এবং পোশাকবিহীন অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

পুলিশ দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাতে সেখানে কারা যাতায়াত করতেন এবং দোকানের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করছে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও দোকানের মালিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tuesday, September 1, 2026

September 01, 2026

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরে যান তিনি।

মন্দির এলাকায় পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীকে স্থানীয় আদিবাসীরা নাচ ও পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়।

পরে মন্দিরে প্রদীপ আরতি করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এরপর তিনি মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর স্থাপত্যশৈলী ও টেরাকোটার কারুকাজ পর্যবেক্ষণ করেন।

কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্প-ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা টেরাকোটার নানা কারুকাজে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও তৎকালীন জীবনযাত্রার বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।

পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মন্দিরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান। তার এই পরিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


 

September 01, 2026

সাবান দিয়ে গোসলের পরও শরীরে দুর্গন্ধ? এই ভুলগুলো করছেন কি?

প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করার পরও যদি শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, তবে তা কিন্তু স্বাভাবিক নয়। অনেকেই পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন, কিন্তু এগুলো ক্ষণিকের স্বস্তি দেয়, সমস্যার মূল সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের সময় কয়েকটি ছোট ভুলের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অতিরিক্ত সাবান বা শক্ত সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। যাদের ত্বক শুষ্ক বা স্পর্শকাতর, তাদের মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। বাহুমূল, পায়ের পাতা ও ঘাম হয়—এমন জায়গাগুলো ভালো করে পরিষ্কার করুন।

গরম পানিতে গোসল স্বস্তিদায়ক হলেও অতিরিক্ত গরম পানি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে গোসলের পরেও ১৫-২০ মিনিট ঘাম হতে পারে। এই ঘামই আবার দুর্গন্ধ তৈরি করে।

শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার করলেও অনেকে পা ঠিকমতো ধোয় না। অথচ পায়ের পাতা থেকেই অনেক সময় দুর্গন্ধের সূত্রপাত। গোসলের সময় পা ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করা জরুরি।

ভেজা তোয়ালে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রেখে দিলে তাতে জীবাণু ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়। বারবার একই তোয়ালে ব্যবহার করলে তা শরীরে গন্ধ ফিরিয়ে আনে। তাই ব্যবহারের পর তোয়ালে ভালো করে মেলে শুকিয়ে নিন এবং নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার করুন।

পাশাপাশি গোসলের পর পরিষ্কার ও শুকনো পোশাক পরাও জরুরি। এ ছোট অভ্যাসগুলোই শরীরের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে।


 

September 01, 2026

নওগাঁর রাণীনগরে জমি দখল ও মাছ লুটের মামলায় চারজন গ্রেপ্তার


নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এক পরিবারের ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা ও পুকুর থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার খাঁনপুকুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—করজগ্রাম দোগাছি উদনাপাড়া গ্রামের সবুজ (৩৫), আব্দুল সাত্তার (৪৬), বুলু (৪৫) ও জহুরুল ইসলাম (৪৩)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, করজগ্রাম-দোগাছি এলাকায় অসিত দেবনাথদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত প্রায় ১০ বিঘা জমির একটি পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি আসামিরা ওই সম্পত্তির ১০ শতক জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে জবরদখলের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট অসিত দেবনাথ সাতজনকে আসামি করে রাণীনগর থানায় মামলা করেন। বাদী অসিত দেবনাথ বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে ক্রয়সূত্রে ওই সম্পত্তি তাঁদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি আসামিরা জবরদখলের চেষ্টা ও মাছ লুট করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, মামলার পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


 

September 01, 2026

রংপুর হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত, আসামিদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মোট ৮০ বার পরস্পরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার আগের ও পরের সময় মিলিয়ে দুই আসামির মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে একবার করে ফোনালাপের প্রমাণ মিলেছে, যা স্বাভাবিক নয়। এই অস্বাভাবিক যোগাযোগের কারণেই পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে তদন্তকারীদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে বাড়ির ছাদে বসে নয়টি ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তি দিলেও ডোপ টেস্টে আসামিদের শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে কোনো মাদক শনাক্ত হয়নি। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইয়াবায় থাকা অ্যামফিটামিন বা মেথামফেটামিনজাতীয় উপাদান মানবদেহে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আর পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।

মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রিমান্ড নামঞ্জুর করেন। সোমবার বিকেলে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসামিদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Monday, August 31, 2026

August 31, 2026

দীর্ঘ তিন মাস পর খুলছে সুন্দরবন, প্রবেশের অনুমতি পাবেন জেলে-পর্যটকরা

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেলে ও পর্যটকরা ওই দিন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট—সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এই সময়ে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলে জানান বনজীবীরা। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডাসহ কয়েকজন বলেন, ‘সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে হবে।’

শুধু জেলে নন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন। নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে। নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন।

একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময় বন্ধ থাকে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। এ কারণে সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের মতে, এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।
August 31, 2026

নেপালের আকস্মিক বন্যায় স্কুল ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে অধ্যক্ষের চেষ্টায় অল্পের জন্য বেঁচে যায় ১,৬৪৩ জন শিশু

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা যখন ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, তখন একজন স্কুল অধ্যক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে গেছেন ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী। ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাদাবি সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন করে এই বিরল উদ্ধার অভিযান সম্ভব করেছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে দাদাবি একটি ফোন পান—উজানের বেত্রাবতী গ্রাম ইতিমধ্যে বন্যায় ভেসে গেছে। স্কুলে তখন প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত, বাকি ৭০০ পথে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের ক্লাস খালি করতে নির্দেশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের পাহাড়ের দিকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তখন তাঁর মনে পড়ে, প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বেশ কয়েকটি স্কুল বাস পথে রয়েছে। তিনি দ্রুত চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের ফিরে যেতে বলেন। এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেরি হলে তিনি সরাসরি ওই বাসটি দেখতে পান—যা তখন স্কুলের কাছে একটি সেতু পার হচ্ছিল। তিনি চালককে বাসটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে বলেন। সেতুটি ভেঙে পড়ার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই বাসটি নিরাপদে অপর পারে পৌঁছে যায়।

বন্যার পানি স্কুল ভবন ভাসিয়ে নিলেও শিক্ষার্থীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তারা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয় এবং সবাই প্রাণে বেঁচে যায়।

তবে এই দুর্যোগে স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সান্তোস পারিয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা প্রাণ হারান। স্থানীয়রা দাদাবিকে ‘বীর’ আখ্যা দিলেও তিনি বলেন, ‘আমি আর কী করতে পারতাম?’

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে পাহাড়ি নদীপথে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত বয়ে যায়, যা ঘরবাড়ি, সেতু ও জনবসতি ভাসিয়ে নেয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও উজানের অস্থিতিশীল হ্রদ থেকে আরও বন্যার আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।


 

August 31, 2026

একাই শিক্ষক-দপ্তরী-পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৩২ বছর ধরে স্কুলের হাল দোলনের হাতে

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া গ্রামে অবস্থিত বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। একটি ছোট্ট টিনের কক্ষ, একজন শিক্ষক—যিনি একাই ৩২ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল। নেই কোনো বিষয়ভিত্তিক আলাদা শিক্ষক, নেই আধুনিক অবকাঠামো। তবুও থেমে নেই পড়াশোনা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি একাই সামলান সব ক্লাস। কখনো শিক্ষক, কখনো দপ্তরী, আবার কখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী—সব ভূমিকায় তিনি।

এই স্কুলের অবকাঠামো সাদামাটা। টিনের এক কক্ষ, তাও জীর্ণ। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মাত্র ২০০ টাকা, যার অনেকেই দিতে পারে না নিয়মিত। কেউ কেউ পড়ছে বিনা বেতনে। স্কুল ঘর ঝাড়ু, পরিচ্ছন্নতা, এমনকি অতিথি এলে চা বানানো—সব কাজ নিজেই করেন শিক্ষক দোলন ভৌমিক।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকলেও এই স্কুলের ফলাফল চমকপ্রদ। এখান থেকে পড়াশোনা করে কেউ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কেউ মেডিকেল কলেজে, আবার কেউ হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার। দোলন ভৌমিকের কাছে এটি শুধু চাকরি নয়, ৩২ বছরের এক সম্পর্ক। তাই শরীর খারাপ থাকলেও তিনি স্কুলে আসেন; ছুটির দিন ছাড়া বন্ধ থাকে না তাঁর পাঠদান।

মাস শেষে দোলন ভৌমিকের বেতন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। অর্থের হিসাবে যা সামান্য, কিন্তু তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে অন্য হিসাব। এই স্কুলের বেঞ্চ পেরিয়ে যখন কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় বা বিসিএস ক্যাডার হয়, তখন যেন নিজের সার্থকতা খুঁজে পান তিনি।

দোলন ভৌমিকের স্বামী ধর্মপ্রচারের কাজে থাকেন। দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, আরেকজন পড়াশোনা করছেন। সংসার সামলিয়েও তিনি অক্লান্তভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল।

নেই বড় কোনো ভবন, নেই একাধিক শিক্ষক। তবু একজন শিক্ষকের নিষ্ঠা আর শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন—এই দুইয়ে এগিয়ে চলেছে বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের স্বপ্ন আর আত্মত্যাগই যেন এই স্কুলের মূল প্রাণশক্তি।


 

Sunday, August 30, 2026

August 30, 2026

খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল খাওয়া নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে—কেউ বলছেন খালি পেটেই ফল খেতে হবে, কেউ বলছেন খাবারের পর। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন পর্যায়ে ফল খাওয়া হচ্ছে, তা পুষ্টি শোষণে তেমন প্রভাব ফেলে না।

খাবারের ক্রম নিয়ে ধারণা

‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যা অনুযায়ী খাবারের উপাদান কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারের ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনে একই রকম কাজ করে না।

আঁশ ও প্রোটিনের গুরুত্ব

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফল আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদাভাবে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।’

ফলের সঙ্গে কী মিশিয়ে খাবেন

ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। যেমন—

কলার সঙ্গে পিনাট বাটার

আপেলের সঙ্গে বাদাম

ফলের সঙ্গে দই

ক্যান্টালুপ, আম বা এপ্রিকটের সঙ্গে এক মুঠো বাদাম

অ্যাভোকাডো দিয়ে ফলের স্মুদি

পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ

ডায়েটিশিয়ান মানাকার বলেন, ‘ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই ছেড়ে দিতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য দৈনিক ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেওয়া হয়।

খালি পেটে ফল খেতে না পারলেও তা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফল খাওয়া যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই—এমন বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।


 

"
"